এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি যেভাবে টাচ করছেন, সেটি তার কাছে হয়তো 'শারীরিক চাহিদা' বা 'দাবি' হিসেবে ধরা পড়ছে, যার কারণে তিনি বিরক্ত হচ্ছেন। নারীদের জন্য আবেগপ্রবলতা (রোমান্টিক মুড) তৈরি হয় মস্তিষ্কে, সরাসরি শরীরে নয়। তাই কৌশলটি পাল্টাতে হবে।
আপনি যদি চান যে তিনি আপনার স্পর্শ চান এবং তাতে বিরক্ত না হন, তাহলে এই ৫টি ধাপ মেনে চলুন:
১. 'নন-সেক্সুয়াল টাচ' দিয়ে শুরু করুন (শরীরের বাইরে):
সরাসরি বুক বা গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া বন্ধ করুন। তাকে আবেগপ্রবল করতে হলে প্রথমে তাকে 'নিরাপদ' বোধ করান।
যেমন: তার হাতটা ধরে রাস্তা পার করানো, তার চুল আঁচড়ে দেওয়া, কাঁধে হাত রেখে পিছন থেকে আদর করা, বা পা ম্যাসাজ করা। এই টাচগুলোতে কোনো 'লেনদেনের মনোভাব' (যেমন—আমি স্পর্শ করছি, তাই তাকে সাড়া দিতেই হবে) রাখবেন না। শুধু ভালোবাসার খাতিরে স্পর্শ করুন।
২. প্রথমে 'মনের' যত্ন নিন, তারপর 'শরীরের':
নারীদের আকর্ষণের চাবিকাঠি হলো আবেগিক সংযোগ। তাকে জিজ্ঞেস করুন—'তোমার দিনটা কেমন গেল?', 'আজ কী নিয়ে বেশি চিন্তা করছ?'—এবং সত্যিই তার কথা শুনুন। তিনি যখন বুঝতে পারবেন যে আপনি তার মনের কথা বোঝেন, তখন তাঁর শরীর আপনাকে খুলে দিতে ভয় পাবে না।
৩. তাকে আশ্বস্ত করুন (নিরাপত্তা ও প্রশংসা):
প্রায়ই তাকে বলুন যে তিনি কত সুন্দরী, শুধু তার চেহারা নয়, তার হাসি, তার রান্না, তার কাজ করার স্টাইল—সব কিছুতে তাকে গুরুত্ব দিন। যখন একজন নারী মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করেন, তখন তাঁর শরীরের উত্তেজনা নিজে থেকেই কমে যায়।
৪. তাঁর 'বিরক্তি'কে সম্মান করুন (এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
যখন তিনি বিরক্ত হন, তখন সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিন এবং হাসিমুখে বলুন—'ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছেমতো।' এতে তিনি অবাক হবেন এবং ভাববেন যে আপনি তাঁর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই 'সম্মান' তাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে। তিনি যখন দেখবেন যে আপনি তাঁর 'না'-কে ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন না, তখন তিনি নিজেই আগ বাড়িয়ে আসবেন।
৫. পরিবেশ ও সময় গুরুত্বপূর্ণ:
সে যদি রান্না করছে, অফিসের কাজ করছে, বা ক্লান্ত, তখন স্পর্শ করা বিরক্তির কারণ হয়। সময় বেছে নিন—রাতের দিকে আলো কমিয়ে, একটু গান বাজিয়ে, বা ছুটির দিনে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে জড়িয়ে ধরুন। তবে তাও চেপে ধরে নয়, আলতোভাবে।
মনে রাখবেন: আপনার স্ত্রী হয়তো আগে কখনও বলেনি, কিন্তু নারীরা 'আপনার প্রতি আকর্ষণ' এবং 'শারীরিক সম্পর্ক'-এর মধ্যে একটি বড় সেতু দেখতে চায়, যার নাম "আন্তরিকতা"। আপনি যদি দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতি যত্নশীল হন, তবে টাচের সময় সে আর বিরক্ত হবে না, বরং আপনার কাছে আসতে চাইবে।
আপনি যখন তাকে স্পর্শ করবেন, তখন আপনার মনোভাব থাকুক—"আমি তোমাকে ভালোবাসি" (শুধু "আমি তোমাকে চাই" না)। এই পরিবর্তনটাই সবকিছু বদলে দেবে।